প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করলে টাকা কেন কেটে নেওয়া হয়?
অনেকেই অভিযোগ করেন: “আমি ১০০০ টাকা রিচার্জ করেছি, কিন্তু মিটারে ব্যালেন্স দেখতে পাচ্ছি ৮২৮ টাকা বা ৭৫০ টাকা! বাকি টাকা কোথায় গেল?”
প্রিপেইড মিটারে টাকা কাটার পেছনে কোনো অতিরিক্ত গোপন চার্জ নেই; বরং এটি প্রতি মাসের নির্ধারিত সরকারি কর ও পরিচালন ব্যয়ের কারণে ঘটে থাকে।
কী কী কারণে টাকা কাটা হয়?
যখন আপনি রিচার্জ করেন, সিস্টেম পর্যায়ক্রমে নিচের বিষয়গুলো সমন্বয় করে:
- 1সরকারি ভ্যাট (৫%): জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) নির্ধারিত ৫% ভ্যাট তাৎক্ষণিক কেটে নেওয়া হয়।
- 2মাসিক ডিমান্ড চার্জ: অনুমোদিত লোড অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াটে ৳৪২ (মাসের ১ম রিচার্জে)।
- 3মাসিক মিটার ভাড়া: বিতরণ সংস্থার দেওয়া সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য ৳৪০ এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য ৳২৫০।
- 4পূর্ববর্তী জরুরি ব্যালেন্স বা ফ্রেন্ডলি আওয়ার ঋণ: ব্যালেন্স শূন্য হওয়ার পর আপনি যে ঋণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছিলেন।
- 5বিগত মাসের বকেয়া ফিক্সড চার্জ: যদি বিগত ১ বা একাধিক মাস রিচার্জ না করে থাকেন।
১০০০ টাকা রিচার্জের বাস্তব উদাহরণ (সিঙ্গেল ফেজ, ২ কিলোওয়াট লোড)
ধরা যাক, আপনি চলতি মাসের প্রথম রিচার্জে ৳১,০০০ টাকা রিচার্জ করেছেন:
| হিসাবের খাত | টাকার পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মোট রিচার্জ | ৳১,০০০.০০ | আপনার বিকাশ/নগদ/কার্ডে দেওয়া টাকা |
| − সরকারি ৫% ভ্যাট | ৳৪৭.৬২ | ১০০০ − (১০০০ ÷ ১.০৫) |
| − মাসিক ডিমান্ড চার্জ | ৳৮৪.০০ | ২ কিলোওয়াট × ৳৪২ |
| − মাসিক মিটার ভাড়া | ৳৪০.০০ | সিঙ্গেল ফেজ মিটার |
| মোট কর্তন | ৳১৭১.৬২ | সর্বমোট কাটা হলো |
| + সরকারি ০.৫% রিবেট | +৳৪.১৪ | প্রিপেইড প্রণোদনা |
| ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যালেন্স | ৳৮৩২.৫২ | মিটারে জমা হওয়া আসল ব্যালেন্স |
দ্বিতীয়বার রিচার্জ করলে কি আবার টাকা কাটবে?
না! আপনি যদি একই ক্যালেন্ডার মাসে আবার ৫০০ বা ১০০০ টাকা রিচার্জ করেন, তবে:
- ডিমান্ড চার্জ: ৳০ (কাটা হবে না)
- মিটার ভাড়া: ৳০ (কাটা হবে না)
- কেবল ৫% ভ্যাট: কাটা হবে এবং বাকি প্রায় সব টাকাই ব্যালেন্সে জমা হবে।