বাংলাদেশের সর্বশেষ খুচরা বিদ্যুৎ ট্যারিফ রেট চার্ট (BERC Approved)
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল বিতরণ কোম্পানি (DPDC, DESCO, BREB/PBS, BPDB, WZPDCL, NESCO)-এর জন্য একই খুচরা ট্যারিফ কাঠামো কার্যকর রয়েছে।
নিচে আবাসিক, বাণিজ্যিক, ক্ষুদ্র শিল্প ও সেচসহ সকল শ্রেণির সরকারি ট্যারিফ তালিকা দেওয়া হলো:
| গ্রাহক শ্রেণি | সরকারি কোড | বিদ্যুৎ রেট (টাকা/kWh) | মাসিক ডিমান্ড চার্জ (প্রতি kW) |
|---|---|---|---|
| আবাসিক লাইফলাইন (১-৫০ ইউনিট) | LT-A (ধাপ ০) | ৳৫.৩২ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| আবাসিক (১-৭৫ ইউনিট) | LT-A (ধাপ ১) | ৳৬.১৮ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| আবাসিক (৭৬-২০০ ইউনিট) | LT-A (ধাপ ২) | ৳৮.৫০ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| আবাসিক (২০১-৩০০ ইউনিট) | LT-A (ধাপ ৩) | ৳৯.১০ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| আবাসিক (৩০১-৪০০ ইউনিট) | LT-A (ধাপ ৪) | ৳৯.৬২ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| আবাসিক (৪০১-৬০০ ইউনিট) | LT-A (ধাপ ৫) | ৳১৫.০১ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| আবাসিক (৬০১+ ইউনিট) | LT-A (ধাপ ৬) | ৳১৭.৩৫ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্প | LT-B | ৳৬.০৪ / ইউনিট | ৳৪২ / মাস |
| ক্ষুদ্র শিল্প (Small Industry) | LT-C1 (ফ্ল্যাট) | ৳১২.৭৩ / ইউনিট | ৳৮৮ / মাস |
| নির্মাণ কাজ | LT-C2 | ৳১৮.০৯ / ইউনিট | ৳১২০ / মাস |
| শিক্ষা, ধর্মীয়, দাতব্য ও হাসপাতাল | LT-D1 | ৳৯.০৫ / ইউনিট | ৳৬০ / মাস |
| রাস্তার বাতি ও পানির পাম্প | LT-D2 | ৳১১.৪৬ / ইউনিট | ৳৯০ / মাস |
| ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন (EV) | LT-D3 (ফ্ল্যাট) | ৳১১.৩৬ / ইউনিট | ৳৯০ / মাস |
| বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অফিস | LT-E (ফ্ল্যাট) | ৳১৫.৩৬ / ইউনিট | ৳৯০ / মাস |
| অস্থায়ী সংযোগ | LT-T | ৳২৩.৮১ / ইউনিট | ৳১২০ / মাস |
আবাসিক গ্রাহকদের প্রগ্রেসিভ স্ল্যাব (Slab) কীভাবে কাজ করে?
অনেকে মনে করেন মাসে ১৫০ ইউনিট খরচ হলে পুরো ১৫০ ইউনিটের জন্যই বুঝি ৮.৫০ টাকা করে কাটা হবে। এটি ভুল ধারণা!
বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থা প্রগ্রেসিভ স্ল্যাব (ধাপভিত্তিক) নিয়মে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ:
- 1প্রথম ৭৫ ইউনিটের জন্য: প্রতি ইউনিট ৳৬.১৮ হারে হিসাব করা হবে (৭৫ × ৳৬.১৮ = ৳৪৬৩.৫০)।
- 2পরবর্তী ৭৬ থেকে ১৫০ ইউনিট (৭৫ ইউনিট): প্রতি ইউনিট ৳৮.৫০ হারে হিসাব করা হবে (৭৫ × ৳৮.৫০ = ৳৬৩৭.৫০)।
- 3মোট বিদ্যুৎ খরচ: ৳৪৬৩.৫০ + ৳৬৩৭.৫০ = ৳১,১০১.০০।
বিশেষ নোট: যদি আপনার মোট মাসিক ব্যবহার ৫০ ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে আপনি বিশেষ লাইফলাইন রেট (৳৫.৩২/ইউনিট) পাবেন। কিন্তু ব্যবহার ৫১ ইউনিট হলেই সাধারণ স্ল্যাব (১-৭৫ ধাপ) প্রযোজ্য হবে।
বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত সরকারি চার্জ ও করসমূহ
বিদ্যুৎ ইউনিটের মূল্যের সাথে প্রতি মাসে আরও কিছু ফিক্সড ফি ও কর যুক্ত হয়:
- ১. অনুমোদিত লোডের ডিমান্ড চার্জ: আপনার মিটারের অনুমোদিত লোড (Sanctioned Load) যত কিলোওয়াট হবে, প্রতি কিলোওয়াটে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ৳৪২ প্রতি মাস নেওয়া হয়। (যেমন: ২ কিলোওয়াট লোড হলে ২ × ৪২ = ৳৮৪)।
- ২. সরকারি ৫% ভ্যাট: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) নির্ধারিত ৫% ভ্যাট মোট বিদ্যুৎ ও ডিমান্ড চার্জের ওপর প্রযোজ্য।
- ৩. মাসিক মিটার ভাড়া: বিতরণ কোম্পানির সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য ৳৪০/মাস এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য ৳২৫০/মাস। গ্রাহকের নিজস্ব অনুমোদিত মিটারে কোনো ভাড়া নেই।
- ৪. প্রিপেইড ০.৫% সরকারি রিবেট: প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করলে সরকার বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্যের ওপর ০.৫% নগদ প্রণোদনা (Rebate) দিয়ে থাকে।
কীভাবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?
- স্ল্যাব সীমার দিকে লক্ষ্য রাখুন: আপনার মাসিক ব্যবহার যদি ২০০ বা ৩০০ ইউনিটের কাছাকাছি থাকে, তবে সামান্য সচেতন হলেই উচ্চতর স্ল্যাব (৳১৫.০১ বা ৳১৭.৩৫) এড়ানো সম্ভব।
- এসি ও গিজারের টাইমার ব্যবহার: এসির তাপমাত্রা ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখলে প্রতি ডিগ্রিতে ৩-৫% বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
- অনুমোদিত লোড পরীক্ষা করুন: প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত লোড অনুমোদন করা থাকলে প্রতি মাসে বাড়তি ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়।